বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এদেশে কাজ করলেও, এবারই প্রথম কোনও বাংলাদেশীকে দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি। আগামী দুই বছর এই দায়িত্ব পালন করবেন তাহসান...

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (UNHCR) এর শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী এবং অভিনেতা তাহসান খান। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে তাহসানকে ইউএন এইচসিআর বাংলাদেশের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার বাংলাদেশ প্রধান স্টিফেন করলিস। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এদেশে কাজ করলেও, এবারই প্রথম কোনও বাংলাদেশীকে দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। আগামী দুই বছর এই দায়িত্ব পালন করবেন তাহসান।

২০১৯ সাল থেকে শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তাহসান। এর অংশ হিসেবে তিনি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। বিশ্ব শরণার্থী দিবস ও অন্যান্য আয়োজনে তিনি সংস্থাটির সঙ্গে কাজ করেছেন। শরণার্থীদের যাতনা ও বেদনা অনুভব করার চেষ্টা করেছেন তিনি। সারা বিশ্বে ইউএনএইচসিআরে ৩১ জন শুভেচ্ছা দূত রয়েছেন। তারা শরণার্থীদের অবস্থা ও সংস্থাটির কাজের স্বরূপ সবার সামনে তুলে ধরেন, প্রচারণা চালান। এই তালিকার ৩২তম নাম হিসেবে তাহসান এখন থেকে তাদেরই একজন হয়ে কাজ করবেন। 

আজকের সংবাদ সম্মেলনে তাহসান বলেন, ‘জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সাথে যুক্ত হতে পেরে আমি সম্মানিত ও গর্বিতবোধ করছি। পৃথিবীর এক শতাংশেরও বেশি মানুষ আজ সংঘাত ও নির্যাতনের কারণে বাস্তুচ্যুত। ভাগ্যবান ৯৯ শতাংশ মানুষের একজন হিসেবে শরণার্থীদের হয়ে কথা বলা আমার মানবিক দায়িত্ব।’

শুভেচ্ছাদূত হিসেবে চুক্তি স্বাক্ষর করছেন তাহসান

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাহসান। শরণার্থী সমস্যা স্বল্প সময়ে শেষ হবার নয়- এমনটাও মনে করেন এই তারকা। তার মতে, এই সমস্যা এক-দুইদিনে সমাধান হবে না এবং এই পথটি অনেক দুর্গম বলেও তিনি মনে করেন। বলেন, ‘এতবড় দায়িত্ব নিতে পারবো কিনা সেটি নিয়ে আমি শঙ্কিত। সবার সহায়তা চাইছি।' রোহিঙ্গাদের জন্য কোনও চলচ্চিত্র বা নাটক তৈরি করবেন কিনা জানতে চাইলে, ‘এটি নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। তবে প্রথমে একটি গান অডিও-ভিডিও আকারে করবো।’

উল্লেখ্য যে, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর সারাবিশ্বের শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুতদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে, জীবন-রক্ষাকারী সহায়তা দেয় আর সংকট সমাধানের উদ্দেশ্যে কাজ করে। এই প্রথম বাংলাদেশী কেউ তাদের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে মনোনীত হলেন। 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা