রাত সাড়ে আটটায় প্রচার হওয়ার কথা থাকলেও ভায়োলেন্সের ইস্যু দেখিয়ে আর বাচ্চারা এই সিনেমা দেখতে পারবে না- এমন আলাপ তুলে সিনেমাটা রাত ১১ টার পর টিভিতে প্রচারিত হল। সেই সময়ে রাত ১০টা বাজে ঘুমিয়ে যাওয়া বাচ্চাদের জানা হল না, কী দুর্দান্ত এক সিনেমা টিভিতে দেখা মিস করল তারা!

১৯৯৭ সাল। 

প্রোডিউসার ঝামু সুগান্ধের অফিসে বসে আছেন ডিরেক্টর রামগোপাল ভার্মা। দুই বছর আগে তার নির্মিত রঙিলা সিনেমার প্রোডিউসার ছিলেন ঝামু। রামুর তখন প্ল্যান মুম্বাই বেজড একটা একশন সিনেমা বানাবেন। আর মনে ক্ষীণ আশা, সেই সিনেমা প্রোডিউস করতে রাজি হবেন সামনে বসা ঝামু।

রামুর আশায় ছেদ ঘটালো একটা টেলিফোনের আওয়াজ। ঝামুর অফিসের টেলিফোন বেজে উঠলো। রিসিভার কানে ধরতেই ঝামুর মুখ শুকিয়ে গেল। রিসিভার রাখার পর রামু জিজ্ঞাসা করলেন- কী হয়েছে?
-গুলশান কুমারকে মেরে ফেলসে!
-কী বলেন! মেরে ফেলসে মানে? কে? কারা? কখন? 
-একটু আগেই, সকাল সাড়ে আটটার দিকে। ১৭ টা গুলি করসে আততায়ীরা।
-কী বলেন! সকাল সাতটায় তিনি নিজে আমাকে কল করে আলাপ করলেন যে নয়টায় আপনার অফিসে এসে আমার সাথে দেখা করবেন আর মাত্র দেড় ঘন্টার মাঝে এতকিছু.... 

আর কিছু বলতে পারেন না রামগোপাল ভার্মা। 

সেদিনের পর থেকে ইন্ডাস্ট্রির সবাই ভয়ে তটস্থ। একমাত্র রামগোপাল ভার্মা সবার চেয়ে আলাদা। তিনি শুধু ভাবছেন- যার সাথে দেড় ঘন্টা আগে আলাপ করলাম, সে কীভাবে এভাবে মরে যায়? যারা তাকে গুলি করেছিল, তারা তাহলে কত সকালে উঠেছিল? তারা কি সকালে নাস্তা করে এসেছিল নাকি খুন করার পরে বাসায় গিয়ে আরাম করে নাস্তা করেছিল? আন্ডারওয়ার্ল্ডের এসব লোকেরা যখন গুলি খেয়ে মরে বা কাউকে গুলি করে মারে, শুধু তখনই আমরা তাদের খোঁজ পাই। কিন্তু নরমালি এদের জীবন কেমন? 

রামু সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন, তার নেক্সট সিনেমা বানাবেন মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে। সিনেমার লেখক হিসেবে নিযুক্ত করেন তখনকার টিভি সিরিয়ালের জন্য নিয়মিত স্ক্রিপ্ট লেখা অনুরাগ কাশ্যাপকে। টিভিতে অনুরাগ যে পরিমাণ টাকা পাচ্ছিলেন লেখার জন্য, রামু তার চেয়েও বেশ কম টাকা দেবেন বলে জানান অনুরাগকে। অনুরাগ এরপরেও রাজি হয়ে যান, শুধুমাত্র 'সিনেমা' বলে। 

রামগোপাল ভার্মা

লার্জার দ্যান লাইফ সিনেমা বেশ পছন্দের ছিল রামুর। তিনি ভাবছিলেন গডফাদার টাইপ একটা কিছু বানাবেন কিনা। অন্যদিকে রাইটার অনুরাগের পছন্দ ছিল রিয়েলিস্টিক সিনেমা। তিনি গুডফেলাস টাইপ সিনেমা পছন্দ করতেন যেখানে অপরাধীকে আর দশটা সাধারণ মানুষের মত দেখানো হয়, তাদের পার্সোনাল লাইফকেও পোট্রে করা হয়। একটু লার্জার দেন লাইফ হবে নাকি রিয়েলিস্টিক- এই নিয়ে শুরুতেই তর্ক শুরু হল। তর্কে শেষমেশ অনুরাগ কাশ্যাপের জয় হল। 

অনুরাগ বললেন- আমি একা লিখতে পারব না। আমার একজন কো-রাইটার লাগবে। রামু বললেন- As you wish! 

রাইটার বিজয় টেন্ডুলকারের কাছে গেলেন অনুরাগ। বিজয় তখন গোভিন্দ নিহালনির মত ডিরেক্টরের জন্য সিনেমা লিখতেন। অসুস্থতার জন্য তিনি সিনেমা লিখতে রাজি হলেন না। অনুরাগ গেলেন পুরোনো বন্ধু সৌরভ শুক্লার কাছে। 

সৌরভ ছিলেন শখের লেখক। মুম্বাইতে এসেছিলেন অভিনেতা হতে। কেউ ডাকে না দেখে লেখালেখি করে কিছুটা পরিচিতি পেয়েছিলেন, তবে মন থেকে কখনও লেখক হতে চাননি। অনুরাগ তাকে বললেন- নতুন একটা সিনেমার জন্য আপনাকে লিখতে হবে। রামুকে বলেছি আমি আপনার কথা। সৌরভ কিছু বললেন না। পরদিন রামু ফোন করলেন। সৌরভের মন একেবারেই মানছে না৷ সিদ্ধান্ত নিলেন- রামুর অফিসে গিয়েই তার সামনে বসে বলবেন- লেখালেখি আমাকে দিয়ে হবে না! 

রামুর অফিসের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই রামু তাকে দেখে বললেন- আসুন আসুন!
-আসলে আমি একটা কথা বলতে এসেছিলাম!
-সব কথা পরে হবে। আপনার সাথে আমার একটা স্পেশাল আলাপ আছে।
-কী আলাপ?
-সিনেমা তো আপনি লিখছেনই আমি জানি, তবে আমি একটা ক্যারেক্টর ভেবেছি, নাম- কাল্লু মামা। আমি চাই ক্যারেক্টর আপনি প্লে করবেন।

সৌরভ শুক্লা হতভম্ব হয়ে গেলেন। যাকা 'না' বলতে এসেছিলেন, সে কিনা এখন সিনেমায় রোল অফার করছে কো রাইটারের পাশাপাশি! নির্দ্বিধায় 'হ্যাঁ' বেরিয়ে এলো তার মুখ থেকে। সিনেমার নাম রাখা হল সিনেমার মেইন ক্যারেক্টরের নামে। সত্য. 

মূল চরিত্রের পাশাপাশি আরেকটা চরিত্র ছিল সিনেমায়- ভিকু মাত্রে। মূল চরিত্রের জন্য রামু বিহারের একজন অভিনেতাকে লক করেছিলেন- নাম তার মনোজ বাজপায়ী। শেষ মুহুর্তে এসে রামুর মনে হল, মূল চরিত্রের জন্য নয় বরং ভিকু চরিত্রের জন্য মনোজ বেশি পার্ফেক্ট হবেন কারণ ভিকু চরিত্রটিকে অনেক বেশি হিন্দিতে ডায়লগ বলতে হবে। 

মূল চরিত্রে মনোজের পরিবর্তে নেয়া হল সাউথের অভিনেতা জেডি চক্রবর্তীকে- এটা জানার পর মনোজের মন ভেঙে গেল। তবে কিছু করার ছিল না তার, যেহেতু কোন কাজ পাচ্ছিলেন না। নিজের গ্রামে দেখা এক সন্ত্রাসীকে অনুসরণ করে ভিকু ক্যারেক্টরটিকে নিজের মাঝে ধারণ করেন তিনি। সেই সন্ত্রাসী অভিনেতা জিতেন্দ্রর বেশ বড় ফ্যান ছিল, এজন্য প্রিন্টেড শার্ট পরত। এজন্য Satya সিনেমাতেও মনোজ বাজপায়ী প্রিন্টেড শার্ট পরতেন। শুধু মুখের ভাষাটা চেঞ্জ করে দিয়েছিলেন তিনি- বিহারের বদলে মুম্বাইয়ের লোকাল ভাষা। 

নতুন সব অভিনেতা, নতুন রাইটার, নতুন এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর আর নতুন সব ক্রু নিয়ে নতুন একটা দিনে সিনেমার শুটিং শুরু হল। 

প্রথম দিন শুট করা হচ্ছিল, জেডি এসে ক্ষুর দিয়ে অভিনেতা সুশান্তের গাল কেটে দেবেন। সিন শুরু হওয়ার পর গাল কাটার ঠিক পরেই সুশান্ত ভয়াবহ জোরে চিৎকার শুরু করেন। তখন আরেকজন এক্টর এসে বলেন- কেউ পানি আনো, জলদি।

চিৎকার, পানি আনা- এগুলোর কিছুই স্ক্রিপ্টে ছিল না। কিন্তু তাৎক্ষণিক ইম্প্রোভাইজেশনের কারণে সিকুয়েন্সটা রামুর এতটাই পছন্দ হয়ে যায় যে তিনি কাট বলতে ভুলে যান আর সেদিন থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়- স্ক্রিপ্ট ধরে কাজ করা হবে না এই সিনেমায়। সবাইকে সিন বুঝিয়ে দেয়া হবে, সিন অনুযায়ী যে যার যার মত করে সংলাপ বলবে। যদিও সমস্ত দৃশ্যে এটা মেইনটেইন করা সম্ভব হয়নি, তবে বেশিরভাগ সিন একদম ইম্প্রোভাইজড করা থাকতো। 

সত্য সিনেমার সেই আইকনিক পোস্টার

পোস্টারে যে দৃশ্যটা দেখতে পাচ্ছেন সেটা এই সিনেমার অন্যতম সেরা একটা দৃশ্য আর এই দৃশ্যে বলা মনোজ বাজপায়ীর সংলাপটা আইকনিক লেভেলের। এই দৃশ্য ধারণের সময় বেশ ঝামেলা পোহাতে হচ্ছিল, কারণ মনোজ বাজপায়ীর উচ্চতাভীতি আছে। এই দৃশ্য ধারণের সময় তার কোমরে দড়ি বাঁধা ছিল আর পেছন থেকে সেই দড়ি শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন অনুরাগ কাশ্যাপ ও অন্যান্যরা। ভয়ের চোটে মনোজ নিজের ডায়লগ বলতে পারছিলেন না। রামু তাকে বললেন- তুমি শুধু নিজের এক্টিং এ ফোকাস কর, আমি ডায়লগ পরে ডাবিং করে বসিয়ে নেব। ওয়াইড এংগেল দৃশ্য যাবে এইটা, সমস্যা নাই। ভয়ের কিছু নাই, দড়ি শক্ত আছে।  

রামগোপাল ভার্মা একদম ক্লিয়ার ছিলেন যে তিনি যতদূর সম্ভব এই সিনেমাকে রিয়েলিস্টিক বানাবেন। এই কারণে শুরু থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন- এই সিনেমায় কোন গান থাকবে না। অনুরাগ কাশ্যাপ আর সৌরভ শুক্লা ভয় পেয়ে গেলেন। কারণ তারা জানতেন, তখনকার সময়ে গান ছিল মার্কেটিং এর সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। গান না থাকলে সকল পরিশ্রম বৃথা। অনেক কষ্টে রামুকে গানের ব্যাপারে রাজি করালেন। রামুও বাস্তবতা মেনে নিলেন। 

গান লিখলেন গুলজার, মিউজিক ডিরেক্টর ছিলেন মুম্বাইতে গান নিয়ে কাজ করতে আসা এক তরুণ যিনি পরবর্তীতে শেক্সপীয়ার সাহিত্যে এতটাই মজে যান যে, শেক্সপীয়ারের বিখ্যাত সাহিত্যের এডাপটেশন করেন সিনেমায়। নাম তার বিশাল ভারদ্বাজ। আর বিজিএম করলেন সন্দীপ চোউতা। সিনেমার আলাদা আলাদা সিকুয়েন্স এর জন্য রামু আলাদা রকমের মিউজিক করালেন সন্দীপকে দিয়ে। সবগুলো মিউজিক পাবেন ইউটিউবে, The Mood of Satya লিখে সার্চ দিলে। এখনও সেই মিউজিক গায়ের রোম দাঁড় করিয়ে দেয়ার জন্য এনাফ। 

গানের ব্যাপারে রাজি হলেও গান নিয়ে ঝামেলা কম হয় নি। কাল্লু মামা গানের লিরিক্স অনুরাগ কাশ্যাপ থেকে শুরু করে সিনেমার বাকিদের পছন্দ হল না। অনুরাগের উপরে দায়িত্ব পড়ল গুলজারের কাছে গিয়ে গানের ব্যাপারে কমপ্লেইন করার। অনুরাগ গুলজারের কাছে গিয়ে বললেন- এইটা কেমন লেখা? ঠিক মনে ধরল না। 
গুলজার বললেন- কোন লাইন মনে ধরল না? 
-এই যে লিখসেন, গাম কে নিচে বোম লাগাকে গামকো উড়া দে। কী এইসব?!
-এই লাইন নিয়ে অভিযোগের আগে গাম শব্দের সঠিক উচ্চারণ কর। তোমার হিন্দি উচ্চারণে সমস্যা আছে, সেটা ঠিক করে এরপরে আমার গানের লিরিক্স নিয়ে আলাপ করতে এসো! 

অনুরাগ আর একটা বাক্যব্যয় না করে চলে এলেন। শেষ পর্যন্ত এই গানকেই সিনেমায় রাখা হল। এই গানের শুটের দিন শুরু হল আরেক সমস্যা! কোরিওগ্রাফার ছিল না সিনেমার গানের জন্য। সেদিন ক্যামেরাম্যানও আবার অসুস্থ। সবাই প্রচন্ড চিন্তিত। একটা দিন লস যাওয়া মানে পানির মত টাকাপয়সার গচ্চা। রামু বললেন- এই গান আমিই শুট করব। তোমরা শুরু কর।
মনোজ বাজপায়ী অবাক হয়ে বললেন- আর নাচ? কোরিওগ্রাফি?
-কোন কোরিওগ্রাফি লাগবে না। মদ খেয়ে মানুষ যেভাবে নাচে সেভাবে সবাই হাত পা ছোড়াছুড়ি করে নাচবে। সিম্পল। যার যা খুশি করবে। 

চার ঘন্টায় এই আইকনিক গান শুট হয়ে গেল। যে রুমে এই গান শুট হয়েছিল, সেই রুমের এক ইঞ্চিও শুকনো ছিল না, মদের ছড়াছড়ির কারণে। 

একসময় শুটিং শেষ হল। সিনেমা মুক্তির আগে বিভিন্ন পেশার ৬০ জন সাধারণ মানুষকে একটা হলে সিনেমাটা দেখানো হল। তাদের রিএকশন ভাল ছিল না। এত গোলাগুলি কেন- এই ছিল তাদের প্রধান অভিযোগ! রামু কিছুটা চিন্তায় পড়ে গেলেন, তাদের অভিযোগ আমলে নিলেন। কিছু অংশ রিশুট করলেন। ক্লাইমেক্সটা নতুনভাবে শুট করলেন। 

২৩ বছর আগে ১৯৯৮ সালের আজকের দিনে সিনেমাটা রিলিজ পেল। প্রথম দিকে মোটামুটি ব্যবসা করলেও আস্তেধীরে দর্শক বাড়তে লাগলো। ২ কোটি বাজেটের সিনেমা ১৫ কোটি আয় করল, ওয়ার্ল্ডওয়াইড আয় করলো ১৯ কোটি। সাথে পেল সমালোচকদের অকুণ্ঠ প্রশংসা। বলিউড আন্ডারওয়ার্ল্ড সিনেমার ধরণ চেঞ্জ করে দিল এই একটা সিনেমা। 

৬টি ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ড পেল সত্য সিনেমাটা। বেস্ট এক্টর ক্রিটিক চয়েসে পুরস্কার পেলেন মূল চরিত্রে অভিনয় করা জেডি চক্রবর্তী। তাকে এওয়ার্ড তুলে দিয়েছিলেন সেই বছর কুচ কুচ হোতা হ্যায় এর জন্য পপুলার চয়েসে বেস্ট এক্টর পাওয়া শাহরুখ খান। জেডির হাতে এওয়ার্ড তুলে দেয়ার সময় শাহরুখ আস্তে করে জেডিকে জিজ্ঞাসা করলেন- এই যে সত্য এত চমৎকার একটা সিনেমা হল, তুমি কি জানো কী করলে সিনেমাটা এতটা চমৎকার হত না?

জেডি বললেন- সেটা কী আবার? আমার জানা নেই!
শাহরুখ হাসতে হাসতে বললেন- জাস্ট তোমার রোলটা যদি আমি করতাম! 

সত্য সিনেমার একটি দৃশ্যে মনোজ ও জেডি

রিলিজের অনেকদিন পর সিনেমাটা টিভিতে প্রিমিয়ার হল। রাত সাড়ে আটটায় প্রচার হওয়ার কথা থাকলেও ভায়োলেন্সের ইস্যু দেখিয়ে আর ফ্যামিলির বাচ্চারা এই সিনেমা দেখতে পারবে না- এমন আলাপ তুলে সিনেমাটা রাত ১১ টার পর টিভিতে প্রচারিত হল। সেই সময়ে রাত ১০টা বাজে ঘুমিয়ে যাওয়া বাচ্চাদের জানা হল না, কী দুর্দান্ত এক সিনেমা টিভিতে দেখা মিস করল তারা! 

তবে নাইন্টিজের সেই বাচ্চারা এখন অনেক বড় হয়েছে। নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন এখন তাদের হাতের মুঠোয়, তাদের দেখার চোখ অনেক তীক্ষ্ণ। আজকে দেখলে এই সিনেমায় হয়ত অনেক ভুল খুঁজে পাবে তারা। এরপরেও তারা এটা ইজিলি বুঝতে পারবে, ঐ সময়ে এই সিনেমা বানানো এত ইজি ছিল না। সিনেমাটা এখনও অনেক ফ্রেশ লাগে, অনেক Raw and realistic লাগে। আর তাতেই এটাকে ক্লাসিক বললে কোনভাবেই বাড়িয়ে বলা হয় না। 

রামগোপাল ভার্মাকে এক ইন্টারভিউতে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল- এত নাম থাকতে এই সিনেমার নাম সত্য কেন?
-সত্য আমার এক্স গার্লফ্রেন্ডের নাম, তাকে মনে করেই এই নাম রেখেছি- রামুর নির্বিকার উত্তর। 

ইঞ্জিনিয়ারিং এর লোভনীয় বেতনের চাকরি না করে, সিনেমা নিয়ে কোন ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা না করে শুধুমাত্র সিনেমার ডিভিডি দেখে যিনি নাইন্টিজে সত্য এর মত সিনেমা বানিয়ে ফেলতে পারেন, তার কাছ থেকে এমন নির্বিকার উত্তরে আমি মোটেও অবাক হইনি। 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা