জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনয়শিল্পী কাজী হায়াৎ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়েছে।

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন কাজী হায়াত। এরমধ্যে শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় গত রবিবার তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। এক ভিডিওবার্তায় হাসপাতাল থেকে কাজী হায়াত বলেন, “আমি এই মুহূর্তে আইসিইউতে, ভালো আছি। আমার জন্য দোয়া করবেন সবাই। হয়তো এই যাত্রায় বেঁচেও যেতে পারি! আল্লাহর কাছে আপনাদের দোয়া অবশ্যই গ্রহণযোগ্য হবে। মানুষের দোয়া, সারা বাংলাদেশের ভক্তদের দোয়া আমাকে বাঁচিয়ে রাখবে”। ফুসফুসে জটিলতায় আক্রান্ত প্রবীণ এই নির্মাতা দেশবাসীর কাছে সুস্থতার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। 

এদিকে, বাবার অসুস্থতার খবর শুনে যুক্তরাস্ট্র থেকে দেশে এসেছেন কাজী হায়াতের ছেলে চিত্রনায়ক কাজী মারুফ। মঙ্গলবার ভোরে কাজী মারুফ নিজের ফেসবুকে আইসিইউ থেকে বাবার ভিডিওটি পোস্ট করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অনেক মানুষ আপনারা আমার বাবাকে ভালোবাসেন। আমার আব্বার জন্য দোয়া করবেন যেন উনাকে সুস্থ করে বাসায় নিয়ে যেতে পারি।” 

দুই ছেলেমেয়ের সঙ্গে কাজী হায়াৎ

অন্যদিকে, কাজী হায়াতের মেয়ে কাজী আফরোজা মিম বলেন, ”ছোটবেলা থেকে এই আব্বা-আম্মাই আমাদের সুন্দরভাবে গড়ে তুলেছেন। তাঁরা খুব সাধারণ ও সাদামাটা জীবন যাপন করে আমাদের সব চাওয়া–পাওয়া পূরণ করেছেন। এই আব্বাটা কখন যে আমার ছেলে হয়ে গেছে, তা টেরই পাইনি। আমার সেই আব্বাটা দুদিন ধরে আইসিইউতে। আমার কিচ্ছু ভালো লাগছে না। কেউ তো আমাকে একবার বলেন, আমার আব্বার কিছুই হয়নি।”

১৬ মার্চ শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি হন কাজী। এর আগে  গত ২ মার্চ করোনার টিকা নেন কাজী হায়াৎ। এরপর ৬ মার্চ সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত হন তিনি। দেশে হঠাৎ করেই করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়, তার শিকার হয়েছেন বরেণ্য এই চিত্রপরিচালক। সম্প্রতি অভিনয় করেছেন হিরো আলম প্রযোজিত ‘টোকাই’ ছবিতে। দেশবাসীর কাছে তিনি সুস্থতার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেছেন। 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা