বিদ্রোহী কবির ‘জয় হোক’ গানটিকে একেবারে নতুন ভাবে হাজির করেছেন পিপলু আর খান। অর্ণবের সংগীতায়োজনে এই মিউজিকাল ফিল্মে বাঁধনকে দেখা গেছে একজন অকুতোভয় ও বিজয়ার বেশে-যেন গ্রিক মিথলোজির ফিনিক্স পাখির নিজের ধ্বংসস্তুপ থেকে পুনরুত্থানের সেই পুরানো গল্পের আধুনিক সংস্করণ!

কাজী নজরুল ইসলামের ‘জয় হোক’ গানটিকে একেবারে নতুন ভাবে হাজির করেছেন ফিল্ম-মেকার পিপলু আর খান। অর্ণবের সংগীতায়োজনে এই মিউজিকাল ফিল্মে আজমেরী হক বাঁধন কে দেখা গেছে একজন অকুতোভয় ও বিজয়ার বেশে-যেন গ্রিক মিথলোজির ফিনিক্স পাখির নিজের ধ্বংসস্তপ থেকে পুনরুত্থানের সেই পুরানো গল্পের আধুনিক সংস্করণ। সোসাল মিডিয়াতে চলছে আলোচনা-অনেকে বলছেন সংগীতশিল্পী সুস্মিতা আনিসের কন্ঠে জাদু আছে! 

একেবারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মিউজিকাল ফিল্মটি সাদা-কালো । শুরু হয় বান্দরবানের রেমাক্রির দুর্গম পাহাড়ি লোকেশনে রাখা একটি পুরানো আমলের টিভির ঝিরঝির স্ক্রিন দিয়ে।মিউজিকাল ফিল্মের শেষে দেখা যায়, জলজ অঞ্চল থেকে টিভিটি এখন একটি প্রাচীন গাছের নিচে,তাতে ভেসে উঠেছে একটি হৃদয় আকৃতির ফল এবং তাতে বসানো রয়েছে একটি ধারালো ব্লেড। শুরু এবং শেষ দৃশ্যের মাঝে দেখা গেছে একজন দুর্দশাগ্রস্ত নারীর চরিত্রের উত্তরণ ও উত্থান। গ্রিক মিথোলজির ফিনিক্স পাখির মতোই দেখা যায়, বাঁধন নিজের ভেতরকার শক্তি দিয়ে জ্বলে উঠেছেন নিজের ধ্বংসস্তুপ থেকেই।

পাহাড়ী লোকেশন, সাদাকালো টোন, বাঁধনের নিখুঁত এক্সপ্রেশন, অর্নবের সঙ্গীত-আয়োজন, সুস্মিতা আনিসের মায়াবী কন্ঠ আর প্রোডাকশন ডিজাইন- কস্টিউম: সবকিছু পরিশোধিত হয়ে মনের মধ্যে সৃষ্টি করে একধরনের শক্তি। যে শক্তির কথা বলে গেছেন বিদ্রোহী কবি-”রবে না এ শৃঙ্খল উচ্ছৃঙ্খলতার/ বন্ধন কারাগার হবে হবে চুরমার? পার হবে বাধার গিরি মরু পারাবার!" একেবারে শেষে গাঢ় লাল অক্ষরে ভেসে উঠে “জয় হোক” শব্দ দুটি। পুরো মিউজিকাল ফিল্মে রয়েছে রূপকের রুচিসম্মত প্রয়োগ আর নাচের মুদ্রার মাধ্যমে নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা কে আমদানি করার শিল্পসম্মত প্রচেষ্টা।

সব মিলিয়ে, জাতীয় কবির গানের ভেতরকার শক্তিকে দৃশ্যকল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে কোনো চেষ্টাই বাদ রাখেননি এই মিউজিকাল ফিল্মের নির্মাতা পিপলু আর খান যিনি ২০১৮ সালে ডকু-ড্রামা ‘হাসিনা:আ ডটারস টেল’ নির্মাণ করেছেন। তবে, পুরো ফিল্মটিতে যে বিষয়টি আপনার নজরকাড়বে, সেটি হচ্ছে এর বাঁধনের কস্টিউম যার পুরো কৃতিত্ব মহসিনা আক্তারের যিনি এই ফিল্মের কস্টিউম ডিজাইনার। লোকেশন এবং থিম অনুযায়ী বাঁধনের কস্টিউম গুলো ছিলো যথার্থ এবং গানের মূলভাবের পরিপূরক।

গানটি সম্পর্কে সুস্মিতা আনিস বলেন, সুস্মিতা আনিস বলেন, “এই মিউজিকাল ফিল্মটি তুলে ধরেছে নারীদের প্রতিদিনের সংগ্রামের চিত্র এবং তাদের রুখে দাঁড়ানোর উদ্দীপনাকে। নজরুল নিয়মভঙ্গের বুননকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং স্বাভাবিকভাবেই এই গানটিতেও উনার অবাধ্য চেতনা প্রকাশ পেয়েছে। এই গানে আশা করা হয়েছে শান্তির, সাম্যের এবং সত্যের জয়ের।অত্যাচার, অসমতা, অশান্তি, জরা এবং মিথ্যার শেকল ভেঙ্গে বেড়িয়ে আসার উৎসাহ যোগায় এই গান”।

অন্যদিকে, এরকম একটি আয়োজনের সাথে যুক্ত থাকতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত বাঁধন।  তিনি বলেন, “গানটিতে কাজ করতে গিয়ে নতুন করে কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। তার গান, কবিতা যুগে যুগে বাঙালির জীবন সংগ্রাম ও স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রেরণার উৎস, শোষণ ও উৎপীড়ন থেকে  মানুষকে মুক্তি এনে দেবে। তাই এমন একটি কাজের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞ”। 

গানটি অনলাইনে প্রকাশ পেয়েছে ২৪ মার্চ। দারুণ প্রশংসিত হয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন এরকম আয়োজনের সাথে যুক্ত হয়ে। বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে বাঁধনের নতুন ওয়েবসিরিজ- সৃজিত মুখার্জির পরিচালনায় নাজিম উদ্দিনের লেখা 'রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেননি' উপন্যাস অবলম্বনে ওয়েবসিরিজিটি হইচই-তে মুক্তি পাবে শীঘ্রই। 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা