অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী রেমন্ড সলোমনের রচনা, পরিচালনা আর প্রযোজনায় লিরিকাল ফিল্ম ‘বাবা’ ভারত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২০–এ সেরা মিউজিক্যাল ফিল্ম নির্বাচিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পটভূমি এই লিরিকাল ফিল্মের মূল ভাষ্য।

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী রেমন্ড সলোমনের রচনা, পরিচালনা আর প্রযোজনায় লিরিকাল ফিল্ম বা গীতিচিত্র ‘বাবা’ ভারত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২০২০– এ সেরা মিউজিক্যাল ফিল্ম নির্বাচিত হয়েছে। ফিল্মে কন্ঠ দিয়েছেন সিডনির ইউটিএস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিসা শামা , সংগীত পরিচালনা করেছেন জেমস ইংল্যান্ড। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পটভূমি এই লিরিকাল ফিল্মের মূল ভাষ্য। 

বাংলাদেশে বেড়ে ওঠা রেমন্ড সলোমন ১৮ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় আছেন। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে বৈমানিক হিসাবে কর্মরত ছিলেন তিনি। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া পাড়ি জমান। এরপর অস্ট্রেলিয়ান ফিল্ম রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশন স্কুল থেকে  চলচ্চিত্র পরিচালনা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। ‘বাবা’ গীতিকাব্য নিয়ে রেমন্ড সলোমন জানান-

“আমার ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশের শিল্পীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করবেন। দেড় দশক ধরে দেশের শিল্পীদের সঙ্গে এসব নিয়ে আলোচনাও করেছি। এরপর নিজে পরিচালনার ওপর পড়াশোনা করি। অভিবাসন আইন পেশা ও শিক্ষার পাশাপাশি পরিচালনার ওপরে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছি। এখন আমি আমার পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের অসাধারণ সব গল্প ও ইতিহাস পৃথিবীকে জানাতে চাই। শুরুতেই বেছে নিয়েছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। আমার মনে হয় পাশ্চাত্যের মার্কেটে আমাদের দেশের গল্পের চাহিদা আছে। দরকার উন্নত মানের নির্মাণশৈলী।”

বাবা মিউজিক্যাল ফিল্মের একটি দৃশ্য

এই গীতিচিত্র তৈরির গল্প জানতে চাইলে রেমন্ড জানান, “বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের অন্য একটি মানবিক দিক আছে। ১৫ আগস্টে নিহতদের বেঁচে যাওয়া সন্তানদের স্বজন হারানো বেদনার গল্প। তাঁদের বেদনা অনুধাবন করার ক্ষমতা কারোরই নেই, থাকার কথাও না। আমার গল্পের মূল চরিত্রের দুজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা। প্রায়ই আমার মনে প্রশ্ন জাগত, এমন নিষ্ঠুরভাবে স্বজনদের হারিয়ে তাঁরা কীভাবে বেঁচে আছেন? একজন বাবার অনুপস্থিতিতে শোকার্ত কন্যার বেড়ে ওঠার বেদনাদায়ক গল্প তুলে ধরার চেষ্টা করেছি গীতিচিত্রে।”

গত বছরের আগস্টে ৬ মিনিট ২ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের মিউজিক্যাল ফিল্ম ‘বাবা’ ইউটিউবে মুক্তি দেওয়া হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ৬০টির বেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে গীতিচিত্র ‘বাবা’ জমা দেওয়া হয়। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত ১০টি সম্মাননা অর্জন করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কে কেন্দ্র করে নির্মিত এই গীতিচিত্র।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা